বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা কঠোর পরীক্ষার মুখে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে বোঝায়, কোনো অর্থনীতি কীভাবে দ্রুত সংকট থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারে, স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়। এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম প্রধান নির্ধারক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, অভ্যন্তরীণ অদক্ষতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এটির স্থিতিশীলতা ও সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বাংলাদেশ কি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও আন্তর্জাতিক অভিঘাত মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং ত্বরান্বিত করতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে অর্থনীতির কাঠামোগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও ভূরাজনৈতিক উপাদানগুলোর গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গল্প রচনা করলেও, সুদূরপ্রসারী কাঠামোগত দুর্বলতা ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো পোশাক রপ্তানি ও বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। যদিও এই দুটি খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি, তবুও এদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে একপাক্ষিক ও বহিরাগত অভিঘাতের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিকল্প প্রবৃদ্ধির খাত যেমন শ্রম ও দক্ষতা-নির্ভর উৎপাদনশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উচ্চমূল্যের পরিষেবা খাতে বৈচিত্র্য আনতে ব্যর্থ হওয়ায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজনক্ষমতা আরও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
😭😭😭😭
ReplyDelete